indiahood
indiahood

জেলাশাসকদের হাতেই দেওয়া হল নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা, বিশেষ বিজ্ঞপ্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

1 hour ago

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: CAA নিয়ে এবার রাজ্য জুড়ে বড় নির্দেশ (CAA New Rules) পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ (CAA West Bengal) আট সীমান্তবর্তী রাজ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা CAA নিয়ে সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি করবেন জেলাশাসকেরাই (District Magistrate)। এর ফলে নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আবেদন মঞ্জুর করে নাগরিকত্ব দেওয়ার সকল প্রক্রিয়া জেলা স্তরেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের

গতকাল, বুধবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী ছয় রাজ্য এবং দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলাশাসকদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আবেদন মঞ্জুর করে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া জেলা স্তরেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এত দিন জনগণনা দফতর, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, ডাক বিভাগ-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করত। এর ফলে আবেদনকারীদের নথি নিয়ে অন্য কোথাও যাচাইয়ের জন্য যেতে হবে না।

তালিকায় থাকবে অসম ও ত্রিপুরা

জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ যে আট রাজ্যের জন্য এই নিয়ম জারি করা হয়েছে, সবগুলিই বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের সীমান্ত লাগোয়া। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে নতুন এই ব্যবস্থা মূলত পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের অ-মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্বতা কমানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তবে অসম ও ত্রিপুরা এই তালিকায় থাকলেও উভয় রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে না। অন্য দিকে গুজরাত, রাজস্থান, পঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখেও কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম। যোগ্যতার শর্ত ঠিকভাবে মানা হয়েছে কিনা সেটা অনুসন্ধান করবে জেলাশাসকেরাই। তারপর সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: ৩৩ শিল্প ইউনিটকে জমি দিচ্ছে রাজ্য, হবে প্রায় ৭০ হাজার জনের কর্মসংস্থান

প্রসঙ্গত, CAA-কে ঘিরে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের দীর্ঘ চাপানউতর চলেছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে জানিয়েছিলেন যে CAA-র বিরুদ্ধে সকলকে একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানানো উচিত। এমনকি তিনি এও বলেছিলেন যে এই আইনের আওতায় আবেদন করলেই নাকি নাগরিকত্ব ‘বাতিল’ হয়ে যেতে পারে। তবে এবার ক্ষমতার রদবদল হতেই বিজেপির সরকার CAA বাস্তবায়নের কাজে গতি এনেছে। রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে, “নাগরিকত্ব কাড়ার জন্য নয়, দেওয়ার জন্যই সিএএ আইন।”