indiahood
indiahood

বকেয়া DA নিয়ে নবান্নে ফের বৈঠক, পেনশন থেকে পে কমিশন নিয়ে একগুচ্ছ দাবি কর্মীদের

3 hours ago

সহেলি মিত্র, কলকাতা: ডিএ (Dearness allowance) নিয়ে সরকারের সঙ্গে ফের এক দফায় আলোচনা করলেন সরকারি কর্মীরা। আগামী ১৮ আগস্ট, ২০২৬-এ বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু তার আগেই গত ১৪ আগস্ট নবান্নে অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মাননীয় প্রভাত কুমার মিশ্র মহাশয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের নেতারা বেশ কিছু বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। এই নিয়ে বড় আপডেট অবধি শেয়ার করেছেন ডিএ মামালকারী মলয় মুখোপাধ্যায়। প্রতিটি বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানালেন তিনি।

ফের সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ কর্মীদের

মলয় মুখোপাধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে দুটি দাবিপত্র তুলে ধরেন।সেখানে লেখা রয়েছে যে তাঁরা কী কী দাবি জানিয়েছে সরকারের কাছে। পোস্ট অনুযায়ী, ‘ পূর্ববর্তী রায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরিবর্তে ‘আংশিক কার্যকর’ করার নামে রাজ্য সরকার বিষয়টিকে কর্মী বিরোধী অনাবশ্যক বহুমাত্রিক জটিলতার আবর্তে এনে ফেলেছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রায় পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার দাবি রাখছি।  ‘রোপা-২০০৯’ এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. গণনা করার এক এবং একমাত্র সূচক ‘এ.আই.সি.পি.আই.’, কিন্তু সরকার বাস্তবে অস্তিত্বহীন তথাকথিত ‘স্টেট বেসড সি.পি.আই.’-এর নামে পরিকল্পিত ভুল গণনায় কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ক্ষতির শিকার হতে বাধ্য করেছেন। আমরা অবিলম্বে এই ভুল সংশোধন করে ‘এ.আই.সি.পি.আই.’ অনুসারে পুনর্গণনা ও গণনার দাবি করছি।’

দাবিপত্রে আরও লেখা রয়েছে, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার ‘কমপ্রোমাইজ রিপোর্ট’ এ মনিটরিং কমিটিতে দুটি সংগঠনের ‘সাবমিশন’-এর ‘পেমেন্ট ওয়াইজ অ্যানসার’ দিয়েছেন। কিন্তু মূল মামলাকারী সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর সাবমিশন-এর কোন ‘পেমেন্ট ওয়াইজ অ্যানসার’ দেননি। নিয়মানুযায়ী মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে মনিটরিং কমিটিতে আমাদের ‘সাবমিশন’ অ্যাডাল করা হয়েছিল। আমরা দাবি করছি অবিলম্বে পার্টিমেন্টারি কমপ্রোমাইজ রিপোর্ট মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়ে সরকার মনিটরিং কমিটিতে আমাদের সংগঠনের ‘সাবমিশন’-এর পেমেন্ট ওয়াইজ অ্যানসার মুক্ত করুন।  এখনও পর্যন্ত এপ্রিল-২০০৮ থেকে ডিসেম্বর-২০১৯ পর্যন্ত এ.আই.সি.পি.আই. অনুসারে বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. প্রদানের বিষয়ে রাজ্য সরকার ‘গ্রান্ট-ইন-এইড ইনস্টিটিউশন’গুলির কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, ওয়ার্ক চার্জড কর্মী, ডি.আর.প্রাপক সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী, ডেইলি রেটেড সরকারি কর্মীদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা জানি না। অবিলম্বে তাদের জন্য বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. প্রদানের সময় ভিত্তিক ‘পেমেন্ট সিডিউল’ ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।’

মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, ‘রাজ্য সরকার ইতিপূর্বে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে ‘Estimated Impact on the State Govt. as per Impungned Order’ শিরোনামে প্রদত্ত তালিকায় ‘Grant-in-Aid Employees’ কলমে (কলম নম্বরঃ ০১) আদালতের রায় কার্যকর করতে গ্রান্ট-ইন-এইড ইনস্টিটিউশনের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত অর্থের উল্লেখ করে নিশ্চিতভাবে যে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের আওতাভুক্ত করেছেন মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অন্তর্ভুক্তগ্রহণ সরকার কেন অবস্থান বদলে এই কর্মীদের আদালতের রায় অনুসারে বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. পাওয়ার আইনান অধিকার অস্বীকার করেছেন? সরকার কি এভাবে অবস্থান বদলাতে পারেন? আমরা দাবি করছি এই কর্মীদের আইনান অধিকার ‘হিসেবে বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. দিতে হবে। এখানে বিপুল সংখ্যক কর্মীদের ই-সার্ভিস বুক তৈরি এবং সেগুলি সংশ্লিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার কাজ বাকি থাকলেও, প্রয়োজনে কাজটির অডিট সেরিয়ে, এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বাড়িতে দুটির বেশি LPG সিলিন্ডার? হয়ে যান সাবধান, নেওয়া হতে পারে কড়া আইনি ব্যবস্থা

বকেয়া টাকা আর কবে পাবেন পেনশনররা?

সরকারি কর্মীরা প্রশ্ন তোলেন, কবে সকলে বকেয়া টাকা পাবেন? দাবিপত্র প্রশ্ন রাখা হয়েছে,  ‘কে.এম.সি. এলাকার ব্যাংকগুলি থেকে পেনশনপ্রাপক সরকারি পেনশনভোগীদের বকেয়া ডি.আর. পাওয়ার জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? অবিলম্বে এদের বকেয়া ডি.আর. রিলিজ করুন সরকার। পে-কমিশন সংক্রান্ত একটি জাল সরকারি আদেশনামা সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়ে গেছে। এই ধরনের অপরাধমূলক কাজ সরাসরি সরকারের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করায় অবিলম্বে অপরাধীকে/অপরাধীদের চিহ্নিত করে তার/তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোন দুষ্কৃত সরকারি আদেশনামাকে কৌতুকের সামগ্রী করে তোলার দুঃসাহস না করে। অবিলম্বে গ্রাম পেনশনার/ ফ্যামিলি পেনশনারদের আইন সঙ্গত উত্তরাধিকারীদের বকেয়া ডি.আর. প্রদানে তৎপর হতে হবে। আমরা মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পুনর্নিরীক্ষণ ও অবিকৃতভাবে অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। এই রায় সংক্রান্ত বিষয়ের বাইরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করছি। পুরাতন পেনশন স্কিমের বদলে নতুন পেনশন স্কিম কার্যকর করার যে কোন উদ্যোগের আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি। আমাদের দাবি পেনশন স্কিমে কোন বদল যেন সরকার না করেন।’

Click here to Read More
Previous Article
বাড়িতে দুটির বেশি LPG সিলিন্ডার? হয়ে যান সাবধান, নেওয়া হতে পারে কড়া আইনি ব্যবস্থা
Next Article
AI প্রশিক্ষণ থেকে অনলাইন কোচিং, স্বাধীনতা দিবসে জেন জিদের পাশে থাকার বার্তা মোদীর

Related পশ্চিমবঙ্গ Updates:

Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

Comments (0)

    Leave a comment