indiahood
indiahood

মরুভূমির মহার্ঘ আজওয়া খেজুর চাষ বাংলার বুকে, দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তমলুকের সুব্রত

1 month ago

অনন্যা সরকার, তমলুক: রুক্ষ শুষ্ক মরুভূমি ফসল বাংলার পলিমাটিতে ফলিয়ে নজির গড়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের সুব্রত মন্ডল। অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর আজওয়া খেজুর (Ajwa Dates) মূলত আরব থেকেই আমদানি করা হয় ভারতের বাজারে। কিন্তু বাংলার চাষী সুব্রত তমলুকের গাছে সেই মহার্ঘ খেজুর ফলিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। সাহস ও আধুনিক চিন্তাভাবনাকে হাতিয়ার করে এগিয়ে চলা সুব্রত মন্ডলের এই সফল খেজুর চাষের কাহিনীটি (Success Story of Subrata Mondal), চলুন জেনে নিই। 

মরুভূমির ফল আজ বাংলার বুকে

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক ব্লকের খড়িডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত মন্ডল। আগে একটি ছোট সোনার দোকান চালাতেন। তবে চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল শৈশব থেকে। বিশেষ করে চাষের পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালবাসতেন সুব্রত। তাই নিজস্ব জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন, তাতে বেশ লাভও হয়। এরপরই আরবীয় খেজুর ফলানোর জন্য উদ্যোগী হয়ে ওঠেন। বেশ কয়েক বছর পর তার ফলও পান হাতেনাতে। পরীক্ষামূলকভাবে বসানো গাছগুলিতে ফল ধরতে শুরু করে। 

এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, পূর্ব মেদিনীপুরের বহু জায়গাতেই খেজুরের চাষ হয়। কিন্তু সেসবই দেশি খেজুর, আরবের মেডজুল, মরিয়ম বা আজওয়ার সাথে তার বিস্তর ফারাক। সুস্বাদু ও উচ্চ গুণমানের এই খেজুরগুলি বিদেশ থেকেই আমদানি করা হয়। কারণ পশ্চিম এশিয়ার মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া এই ধরনের খেজুরের চাষ অন্য কোথাও সম্ভব নয় বলেই সকলের ধারণা ছিল এতদিন। কিন্তু সুব্রত মন্ডলের জেদ এবং ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। 

তার নিজস্ব ২৫ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফ্রুট, পেয়ারা কাঁঠালের পাশাপাশি এখন ফলছে মহার্ঘ্য আরবীয় খেজুরও। শুরুতে বিভিন্ন প্রজাতির দশটি খেজুর গাছ লাগান সুব্রত। তিনি জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের কিছু চাষীকে দেখেন আরবীয় খেজুরের চাষ করতে। তাই দেখে তারও মনে ইচ্ছা জাগে বাংলার মাটিতে এই খেজুরের চাষ করবেন। সেই মতোই বীজ থেকে চারা তৈরি করে কয়েকটি গাছ লাগিয়েছিলেন, যেগুলিতে এখন ফল ধরেছে। সুব্রত মন্ডল বলেন, খেজুর গাছ তুলনামূলকভাবে কম জলেই বেঁচে থাকতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেখানে এই খেজুর চাষ লাভদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে। সেই দিক বিচার করে বিকল্প হিসাবে খেজুর চাষকে বেছে নিতে পারে ওই সমস্ত এলাকার চাষিরা। 

আরও পড়ুনঃ কলকাতা থেকে ঝাঁ চকচকে এসি বাসে ঝাড়গ্রাম, শীঘ্রই শুরু হবে পরিষেবা

সুব্রত মন্ডলের এই সাফল্য শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, গোটা রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রেই এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। যে ফলকে এতদিন শুষ্ক উষ্ণ বালিয়াড়িতেই খুঁজে পাওয়া যেত, তা আজ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে ফলছে। আজওয়া খেজুর বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বলে এর বাজার মূল্য অত্যন্ত বেশি। চাহিদাও প্রবল। বাংলায় এই খেজুরের চাষ সফলভাবে হলে কৃষকদের আয় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে আশা করা যায়। এদেশের বাজারেও সহজলভ্য হবে এই প্রজাতির খেজুর। 

Click here to Read More
Previous Article
মেসিকে থামায় কে? এবার কিংবদন্তী মারাদোনার বিশ্বরেকর্ড ভেঙে চুরমার করলেন লিও
Next Article
তৃণমূলের তহবিলের ১৬০ কোটি দিয়ে কেনা হয় বিমান, হেলিকপ্টার? চাঞ্চল্যকর তথ্য ED-র হাতে

Related পশ্চিমবঙ্গ Updates:

Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

Comments (0)

    Leave a comment