indiahood
indiahood

ট্রেনের কম্বল, তোয়ালে, চাদর চুরি করলে এবার হবে জেল! কড়া হচ্ছে রেল

3 weeks ago

অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: গত কয়েক বছরে ভারতীয় রেলের এসি কোচ থেকে কম্বল, তোয়ালে এবং বিছানার চাদর (Bedroll) চুরি বেড়ে চলা নিয়ে উদ্বিগ্ন রেল কর্তৃপক্ষ (Indian Railways)। এই ক্রমাগত হয়ে চলা ক্ষতি আটকাতে রেল মন্ত্রক (Ministry of Railways) এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত চার বছরে লক্ষ লক্ষ বিছানার চাদর চুরির খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি রেল মন্ত্রককে এই চুরি দমনের জন্য অবিলম্বে কর্মকর্তাদের ব্যাপক ও কার্যকরী সংস্কার পরিকল্পনা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর মূল উদ্দেশ্য এসি কোচে (AC Coach) ভ্রমণের সময় সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করা যাত্রীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

ট্রেনের সামগ্রীর চুরি আটকাতে রেলমন্ত্রীর নির্দেশ

সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রেলের ‘৫২ সপ্তাহে ৫২টি সংস্কার’ (52 Weeks 52 Reforms) উদ্যোগ সর্ম্পকে জানিয়েছেন। এই সভাতেই তিনি বিশেষভাবে রেলওয়ের চুরি সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। রেলমন্ত্রী মন্ত্রী উপস্থিত রেল কর্মকর্তাদের কাছে চুরি রোধে কবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা জানতে চান। রেল আধিকারিকরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রীর কাছে দু’মাসের সময় চেয়েছেন। তাঁরা আশ্বাস দেন যে, স্থায়ীভাবে ট্রেনের সামগ্রী চুরি নির্মূল করার জন্য আগামী দু’মাসের মধ্যেই আইনগত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্প্রতি জানা গেছে যে, রেলওয়ে বোর্ড তাদের বেডরোল (লিনেন) ম্যানেজমেন্টকে অত্যাধুনিক করার জন্য বিছানার চাদরের মধ্যে অতি সূক্ষ্ম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি (RFID) চিপ স্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে রেলওয়ের চাদর, তোয়ালে এবং কম্বলগুলির ওপর ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কম্বল ও চাদরে আরএফআইডি চিপের লাগানোর পাশাপাশি ট্রেনের এক্সিট গেটেও অদৃশ্য সেন্সর স্থাপন করা হবে, ফলে কেউ এগুলো নিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলে, সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। 

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে প্রায় ১.২৭ কোটি বেডরোল চুরি হয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের (RTI) অধীনে ১৬টি রেলওয়ে জোনের ৫৪টি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই চুরির ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করে প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চুরির কারণে বেডরোলের দায়িত্বে থাকা কন্ট্রাক্টারদের প্রায় ১০৪.৫১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধান করতে রেলওয়ে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধরনের চোরদের সরাসরি গ্রেপ্তার করার জন্য রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (RPF) মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনার মধ্যে আনা হয়েছে। এছাড়াও তারা জানান, চলন্ত ট্রেন থেকে নামা সন্দেহভাজন যাত্রীদের শনাক্ত করা সহজ নয়, যার ফলে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। নয়া নিয়মে, কোনো যাত্রী ট্রেন থেকে নামার আগে বিছানার চাদর যদি ফেরত না দেন, তাহলে আরপিএফ ওই যাত্রীর মালপত্র তল্লাশি করে দেখার অনুমতি পাবেন। 

Click here to Read More
Previous Article
ফ্রি ভ্রমণের পর সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য আরেকটি বড় পদক্ষেপ সরকারের
Next Article
কলকাতা থেকে দিল্লি, মুম্বাই, পুরী! চালু হল বিলাসবহুল বাস পরিষেবা, জানুন ভাড়া

Related ভারত Updates:

Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

Comments (0)

    Leave a comment