indiahood
indiahood

১৭ বছর বয়সেই বিশ্বের ক্ষুদ্র রোবোটিক হাত তৈরি, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ভারতীয় ছাত্রের

3 weeks ago

অনন্যা সরকার, নাগপুর: মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ছাত্র হিতেন ধরপুরে (Hiten Dharpure) মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ও সম্পূর্ণ কার্যকরী ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল রোবোটিক আর্ম (Electro-Mechanical Robotic Arm) তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (Guinness World Records) নিজের স্থান করে নিয়েছে। তাঁর তৈরি রোবোটিক আর্মটির পরিমাপ মাত্র ৩৯.২৫০ মিলিমিটার, যা আগের ৪৪.৪৯ মিলিমিটারের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের চেয়ে ৫.২৪ মিলিমিটার ছোট। অত্যন্ত ছোট হওয়া সত্ত্বেও, যন্ত্রটি নির্ভুলভাবে ছোট বস্তু ধরতে এবং তুলতে পারে। হিতেন ধরপুরের এই কৃতিত্বটি কেবল একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ডই নয় এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবা ও নির্ভুল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে এক বিরাট সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই রোবটিক আর্ম

হিতেন ধরপুরে এফডিএম (FDM)-ভিত্তিক থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোবোটিক আর্মটি তৈরি করেছেন। তাঁর তৈরি যন্ত্রটিতে মাইক্রো সার্ভো মোটর, পিডব্লিউএম (PWM)-ভিত্তিক কন্ট্রোল সিস্টেম এবং বিশেষভাবে ডিজাইন করা যান্ত্রিক জয়েন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা এটিকে ছোট হওয়া সত্ত্বেও মসৃণ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে নড়াচড়া করতে সক্ষম করে তুলেছে। ছোট বস্তু নির্ভুলভাবে ধরতে ও সরানোর জন্য রোবোটিক আর্মটির একটি ত্রি-অক্ষীয় গতিপথ রয়েছে। কার্যক্ষমতা বজায় রেখে আকার ছোট করার মাধ্যমে হিতেন ক্ষুদ্রতম কার্যকরী ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল রোবোটিক আর্মের আবিষ্কর্তা হিসাবে একটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ে তুলতে পেরেছেন। 

হিতেন ধরপুরে এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, তাঁর বানানো রোবোটিক আর্মটি বর্তমানে একটি প্রোটোটাইপ, কিন্তু তিনি আশা করছেন এই প্রযুক্তি একদিন চিকিৎসাক্ষেত্রে মাইক্রো সার্জারির মতো চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে সম্পাদনে সাহায্য করতে পারবে। আরও ডেভেলপ করা হলে, এই ধরনের রোবোটিক সিস্টেমগুলো সার্জনদের এমন সমস্ত সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের সাহায্য করতে পারে, যেগুলোর জন্য অসাধারণ নির্ভুলতা এবং নিয়ন্ত্রিত মুভমেন্টের প্রয়োজন হয়।

হিতেনের মা কবিতা ধরপুরে জানান, খুব ছোটবেলা থেকেই তাঁর ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। সেই বয়সে হিতেন শুধু খেলনা নিয়ে খেলতোই না, তার সাথে সেগুলো খুলে খুলে তার মেকানিজম বোঝারও চেষ্টা করতো। সন্তানের সাফল্যে গর্বিত মা কবিতা ধরপুরে বিশ্বাস করেন যে, হিতেনের এই কৌতূহলই ধীরে ধীরে ইলেকট্রনিক্সের প্রতি অনুরাগে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ট্রেনের মতো সুবিধা! চালু হল আসানসোল-শিলিগুড়ি প্রিমিয়াম বাসে, জানুন রুট ও সময়সূচি

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিতেন ধরপুরের আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষকে এর সর্ম্পকে অবগত করেছে। তার এই সাফল্য তুলে ধরে, কীভাবে কৌতূহল, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা একত্রিত হয়ে এমন সমস্ত আবিষ্কারের জন্ম দিতে পারে, যা ভবিষ্যত সমাজের উপকারে আসার সম্ভাবনা তৈরি করে। বিশেষ করে প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে। 

Click here to Read More
Previous Article
কলকাতা-শিলিগুড়ির সফরের সময় কমবে আরও দু’ঘণ্টা, NH 12-এ হচ্ছে সারফেস করিডোর
Next Article
“কেন্দ্র মনে করলে এখন সব হবে..” তসলিমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে প্রতিক্রিয়া সুজনের

Related ভারত Updates:

Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

Comments (0)

    Leave a comment